প্রাণের ৭১

মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রাপ্ত ইতালির ধর্মযাজক রিগনের মরদেহ বাংলাদেশে আসছে

মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ ও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া ইতালির ধর্মযাজক ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রাখাসহ এ দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত মহান এই ব্যক্তি গত বছরের ২০ অক্টোবর ইতালিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশ সরকার ফাদার রিগনের শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তার দেহাবশেষ বাংলাদেশের মাটিতে তারই স্থাপিত বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া চার্চের পার্শ্বে সমাধিস্থ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে।

ফাদার রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের অদূরে ভিন্নাভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একজন খ্রিস্ট ধর্মযাজক হিসেবে তিনি ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশে আসেন।

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে অবশেষে তিনি মংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে একটি চার্চ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ওই গ্রামেই স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ছিল তার অকুণ্ঠ সমর্থন। যুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য নিজের প্রতিষ্ঠিত চার্চে গোপনে একটি চিকিৎসাক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। তার এই ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সুস্থ হয়ে পুনরায় রণাঙ্গনে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে বিখ্যাত হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রমও ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে ফাদার মারিনো রিগনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।

বাংলাদেশে বসবাসের পর থেকে তিনি বাংলা ভাষা শিখতে শুরু করেন এবং বাংলা সাহিত্যের প্রতি তার কৌতূহল ও নিবিড় ভালোবাসার জন্ম হয়। তিনি রবীন্দ্রনাথের রচনাবলি, লালনের সংগীত ও দর্শনের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন। তার মাধ্যমে ইতালিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলিসহ প্রায় ৪০টি কাব্যগ্রন্থ।






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*