প্রাণের ৭১

বিক্রমাসিংহের সতর্কতা

রক্তবন্যা এড়ানোর সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে

শ্রীলঙ্কার বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, দেশকে সম্ভাব্য ‘রক্তবন্যার’ হাত থেকে রক্ষা করার সময় ফুরিয়ে আসছে। তাঁর আশঙ্কা, উত্তেজিত জনতা যেকোনো সময় রাজপথে নেমে অরাজকতা তৈরি করতে পারে। তবে শিগগিরই পার্লামেন্ট অধিবেশন ডেকে চলমান সংকট নিরসন করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া দাবি করেছেন, আগামী বুধবার তিনি পার্লামেন্টের যে অধিবেশন ডেকেছেন, তাতে প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা সম্মতি দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

শ্রীলঙ্কায় এখন কার্যত দুজন প্রধানমন্ত্রী—বিক্রমাসিংহে ও মাহিন্দা রাজাপক্ষে। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা গত ২৬ অক্টোবর বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করলেও তিনি তা অমান্য করে এখনো প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে সিরিসেনা নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান রাজাপক্ষেকে। বিক্রমাসিংহের যুক্তি, প্রধানমন্ত্রীকে বহিষ্কার করার সাংবিধানিক অধিকার প্রেসিডেন্টের নেই। এ ছাড়া তাঁর দলই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর এটি প্রমাণ করতে শুরু থেকেই পার্লামেন্ট অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট মুলতবি রাখার আদেশ দিয়েছেন সিরিসেনা।

এ অবস্থায় পার্লামেন্টে অধিবেশন বসলে সেখানে সিরিসেনা ও রাজাপক্ষের অনুসারী এমপিরা অংশগ্রহণ করবে কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতেই নির্ধারিত হবে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন—বিক্রমাসিংহে নাকি রাজাপক্ষে?

পার্লামেন্টের সম্ভাব্য ভোটে জয় পেতে ইতিমধ্যে বিরোধী এমপিদের দলে টানতে ‘লোভনীয়’ সব প্রস্তাব দিচ্ছে সিরিসেনা ও রাজাপক্ষের দল। এসব প্রস্তাবে রাজি হয়ে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে দলত্যাগ করেছেন। বিক্রমাসিংহের ‘ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি’ (ইউএনপি) ছেড়ে সর্বশেষ সিরিসেনাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এস বি নাউইনা। আর ‘পুরস্কার’ হিসেবে রাজাপক্ষের সরকারে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (টিএনএ) এক এমপি রাজাপক্ষের সরকারে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে বানানো হয়েছে উপমন্ত্রী। সিরিসেনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, ‘আশা করছি আজ (শনিবার) আরো কয়েকজন এমপিকে দলে টানতে পারব।’

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের মোট সদস্যসংখ্যা ২২৫। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিক্রমাসিংহের পক্ষে রয়েছেন ১০৩ জন এমপি। সিরিসেনা ও রাজাপক্ষের সঙ্গে আছেন ১০০ জন। বাকি ২২ জনের মধ্যে বেশির ভাগ এমপি শেষ পর্যন্ত বিক্রমাসিংহেকে সমর্থন দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজের অবস্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপিতে একটি সাক্ষাৎকার দেন বিক্রমাসিংহে। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের লোকজনকে বলব, তারা যেন কোনো সহিংসতায় না জড়ায়। তার পরও উত্তেজিত জনতা রক্তবন্যার সূত্রপাত ঘটাতে পারে।’ বিক্রমাসিংহে মনে করেন, পার্লামেন্টের অধিবেশন ডেকে সংকট নিরসন করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, শেষমেশ পার্লামেন্টের অধিবেশন বসবে। আর সেটি হতে পারে সর্বোচ্চ সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে।’

পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকতে সিরিসেনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুতেরেস উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। সেই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব পার্লামেন্ট সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিরোধ মেটাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাসও দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সূত্র : এএফপি।






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*