প্রাণের ৭১

হৃদয়ভাঙা হারে বিদায় নিল স্কটল্যান্ড।

আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর ভাগ্যের খানিকটা সহায়তায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সুপার সিক্সে নিজেদের শেষ ম্যাচে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৫ রানে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৩২.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৫ রান করে স্কটল্যান্ড। এরপর বৃষ্টি নামলে আর খেলা সম্ভব হয়নি। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে সে সময় জয়ের জন্য স্কটিশদের দরকার ছিল ১৩১ রান।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বুধবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ম্যাচের প্রথম বলে ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দেন সাফিয়ান শরিফ।

উইকেট-মেডেন দিয়ে শুরু করা শরিফ পরের ওভারে ফিরিয়ে দেন শাই হোপকে। বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা শুরুর ধাক্কা সামাল দেয় এভিন লুইস ও মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাটে। শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করেন লুইস। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলতে থাকেন শট। ৮৭ বলে ৬৬ রান করে লুইসের বিদায়ে ভাঙে ১২১ রানের জুটি।

৯৬ বলে ফিফটি পান স্যামুয়েলস। তবে ফিরে যান এক বল পরেই। মাইকেল লিস্ককে উড়ানোর চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ৫১ রানের ইনিংস।

স্যামুয়েলসের উইকেটে ধস নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসে। ৬৩ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলটি থামে দুইশ রানের আগেই। জেসন হোল্ডার, রোভম্যান পাওয়েল ফিরেন দুই অঙ্ক ছুঁয়ে। এক ছক্কায় ২৪ রান করেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট।

উইকেটে বোলারদের জন্য বেশ সহায়তা ছিল। সেটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে স্কটল্যান্ড। সেভাবে কখনো গতি পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। পুরোটা সময় রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে স্টুয়ার্ট লর শিষ্যদের।

স্কটল্যান্ডের দুই পেসার শরিফ ও ব্র্যাড হুইল নেন তিনটি করে উইকেট।

রান তাড়ায় দুই ওপেনারকে দ্রুত হারায় স্কটল্যান্ড। সপ্তম ওভারে ফিরে যান টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান মাইকেল জোন্স। ২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্কটল্যান্ড।

নতুন বলের দুই বোলার কেমার রোচ ও জেসন হোল্ডার আক্রমণ থেকে সরার পর একটু করে আলগা হতে শুরু করে চাপ। ক্যালাম ম্যাক্লাউডের সঙ্গে ৪২ ও জর্জ মানজির সঙ্গে ৩৮ রানের দুটি জুটিতে দলকে পথে রাখেন রিচি বেরিংটন। ৬৮ বলে ৩৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরেন আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লিউ হয়ে।

অফ স্পিনার অ্যাশলি নার্সের বল অফ স্টাম্পে পড়ে অনেকটা ঢুকে বেরিংটনের পায়ে আঘাত হানে। ইম্প্যাক্ট ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে। ডিআরএস না থাকায় রিভিউ নেওয়ার সুযোগ ছিল না ডানহাতি ব্যাটসম্যানের। একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন বেরিংটন।

মাইবেল লিস্ক এসেই চড়াও হয়েছিলেন। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে দ্রুত তুলছিলেন রান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বেরিংটনের বিতর্কিত আউটে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে আরেকটু বড় হয়ে যাওয়া লক্ষ্যটা ছুঁতে পারেননি স্কটল্যান্ড।

৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে বাছাইপর্ব থেকে সবার আগে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উঠে গেল ফাইনালে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিল স্কটল্যান্ড।

৪ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ৫। নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা খেলবে সুপার সিক্সে হেরে চলা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জিতলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে যাবে গ্রায়েম ক্রিমারদের।

স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে হারলে সুযোগ থাকবে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের। তখন ৪ পয়েন্ট করে পাওয়া দল দুটির লড়াইয়ে যারা জিতবে তারাই যাবে বিশ্বকাপে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ (গেইল ০, লুইস ৬৬, হোপ ০, স্যামুয়েলস ৫১, হেটমায়ার ৪, হোল্ডার ১২, পাওয়েল ১৫, ব্র্যাথওয়েট ২৪, নার্স ৫, পল ৫, রোচ ০*; শরিফ ৩/২৭, হুইল ৩/৩৪, ইভান্স ১/৫৮, সোল ০/২৮, লিস্ক ২/৩৬, বেরিংটন ১/১২)

স্কটল্যান্ড: (৩৫.২ ওভারে লক্ষ্য ১৩১) ৩৫.২ ওভারে ১২৫/৫ (ক্রস ৪, কোয়েটজার ২, জোনস ১৪, ম্যাক্লাউড ২১, বেরিংটন ৩৩, মানজি ৩২*, লিস্ক ১৪*; রোচ ২/২০, হোল্ডার ১/৩১, পল ০/১২, ব্র্যাথওয়েট ০/২৭, নার্স ২/৩৫)

ফল: ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ রানে জয়ী






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*