প্রাণের ৭১

ফ্রান্সে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্যারিস, ৫ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রান্স শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও কেক কাটার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটি ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রলীগের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।

ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশী ছাত্র-যুবকদের নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করেন এবং সংগঠনের আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। ফ্রান্স শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাস:

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (সংক্ষেপে ছাত্রলীগ) বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন, যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছাত্র শাখা হিসেবে পরিচিত। এর ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের সাথে জড়িত,

প্রতিষ্ঠা

  প্রতিষ্ঠার তারিখ: ৪ জানুয়ারি ১৯৪৮।

  প্রতিষ্ঠাতা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

  প্রতিষ্ঠার স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অ্যাসেম্বলি হল।

  প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ।

  প্রথম নেতৃত্ব: প্রথম আহ্বায়ক নাঈমুদ্দিন আহমেদ, সভাপতি দবিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খালেক নেওয়াজ খান।

  স্লোগান: শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি।

  পটভূমি: পাকিস্তান সৃষ্টির পর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত। এটি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার এক বছর আগে গঠিত হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাখা হয়।

গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা (স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও স্বাধীনতা যুদ্ধ)

ছাত্রলীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বঙ্গবন্ধু নিজে বলেছেন, “ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস”।

  ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন: ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে আন্দোলন। অনেক নেতা-কর্মী শহীদ হন।

  ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: যুক্তফ্রন্টের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

  ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন: শরিফ কমিশনের গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন।

  ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন: বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা বাস্তবায়নে অগ্রণী।

  ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান: আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন।

  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ: ছাত্রলীগের হাজার হাজার সদস্য মুজিব বাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করে। প্রায় ১৭ হাজার কর্মী শহীদ হয়।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে অংশগ্রহণ করে।






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*