প্রাণের ৭১

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর জন্মদিন।

আজ ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর জন্মদিন।

১৯৪৩ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আজ তিনি ৮৩ বছরে পা দিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার নেতৃত্বে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, গৃহায়ন খাতের আধুনিকায়ন এবং গণপূর্ত বিভাগের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। শিল্পপতি হিসেবেও তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত এই বর্ষীয়ান নেতার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন তার অসংখ্য অনুসারী, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষ।

শুভ জন্মদিন, সম্মানিত ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন!

আপনার অবদান ও নেতৃত্ব চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। জয় বাংলা!

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর-১ (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল)-এর সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন এবং বিভিন্ন গেরিলা অপারেশনে নেতৃত্ব দেন।

উল্লেখযোগ্য অবদান:

  শুভপুর ব্রিজ ধ্বংস অভিযান: মুক্তিযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হলো শুভপুর ব্রিজ (শুভপুর ব্রিজ) উড়িয়ে দেওয়া। এই অভিযানে তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সফলভাবে ব্রিজটি ধ্বংস করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের দিকে অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করেন। এতে চট্টগ্রাম শহরকে ব্যাপক গণহত্যা ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। অনেকে এই ঘটনাকে চট্টগ্রাম রক্ষার অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করেন।

  তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং গেরিলা যুদ্ধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন।

  মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস তিনি দেশের অভ্যন্তরে থেকে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এই যুদ্ধকে জনযুদ্ধে পরিণত করতে সহায়তা করেন।

তাঁর এই অসীম সাহস, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের জন্য তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানিত। পরবর্তীকালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং আজও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস রক্ষায় সোচ্চার থাকেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযুদ্ধের অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*