যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত: বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বড় ধাক্কা
ওয়াশিংটন, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬: ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নামও রয়েছে বলে ফক্স নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো—‘পাবলিক চার্জ’ (সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা) এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করা। এই সময়ে নতুন কোনো ভিসা আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ থাকবে।
কোন কোন দেশ প্রভাবিত হচ্ছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ৭৫টি দেশের মধ্যে রয়েছে:
• সোমালিয়া, রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান
• ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড
• বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ
(দ্রষ্টব্য: পুরো তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে ফক্স নিউজের সূত্রে এই সংখ্যা ও কয়েকটি দেশের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে।)
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রেক্ষাপট
এর আগে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রক্লেমেশন ১০৯৯৮-এর আওতায় ৩৯টি দেশের (পুরোপুরি বা আংশিক) ভিসা ইস্যু স্থগিত/সীমিত করা হয়েছিল। এখন এই নতুন সিদ্ধান্তে প্রভাবিত দেশের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরও একটি সমস্যা যুক্ত হয়েছে—ভিসা বন্ড নীতি। ২১ জানুয়ারি থেকে বি১/বি২ (পর্যটন ও ব্যবসা) ভিসার জন্য সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) জামানত জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
প্রভাব কী হতে পারে?
• পর্যটন, ব্যবসা, ছাত্র ও পরিবার ভিজিট ভিসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে
• যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ও কর্মরত বহু বাংলাদেশি-পাকিস্তানি পরিবারের সদস্যদের নতুন করে আসা কঠিন হবে
• ডিভি লটারি ভিসার ইস্যুও ইতিমধ্যে স্থগিত রয়েছে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা ও সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আপডেটের জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট travel.state.gov নিয়মিত চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী কোনো আপডেট বা ব্যতিক্রম ঘোষণা হলে তা জানানো হবে।
এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের লাখ লাখ মানুষের ভ্রমণ, পড়াশোনা ও পারিবারিক পুনর্মিলনের স্বপ্নে বড় ধাক্কা লেগেছে।
