প্রাণের ৭১

ইরানে বিক্ষোভের প্রতিবাদকারী এরফান সোলতানি, ২৬ বছর বয়সী যুবক ফাঁসির মঞ্চ থেকে রক্ষা পেয়েছেন

ইরানের চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে একটি আশার খবর এসেছে। ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি, যিনি বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল, তিনি ফাঁসির হাত থেকে আপাতত রক্ষা পেয়েছেন।

এরফান সোলতানি গত ৮ জানুয়ারি (২০২৬) তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত ফারদিস শহরে (কারাজের কাছে) বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। তিনি একটি পোশাকের দোকানের কর্মচারী বা মালিক ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাউ (Hengaw) এবং তার পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে (২-৪ দিনের মধ্যে) তাকে মোহারেবাহ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১৪ জানুয়ারি তার ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল। এই সময়ে তাকে কোনো আইনজীবী বা ন্যায়সঙ্গত বিচারের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে, ফাঁসির আগে তাদের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে “খুবই শক্তিশালী পদক্ষেপ” নেওয়া হবে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ইরান হিউম্যান রাইটস এই ঘটনার নিন্দা করে তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁসি স্থগিত করার আহ্বান জানায়।

১৪ জানুয়ারি রাতে হেঙ্গাউ জানায় যে, পরিবারের কাছে খবর এসেছে—এরফানের ফাঁসি স্থগিত করা হয়েছে। পরের দিন ১৫ জানুয়ারি ইরানের বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করে যে, এরফান সোলতানিকে কখনোই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সমাবেশ এবং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণা—যার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি কারাদণ্ড হতে পারে, ফাঁসি নয়। তিনি বর্তমানে কারাজ কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

এই ঘটনাকে অনেকে আন্তর্জাতিক চাপ এবং বিক্ষোভকারীদের অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেখছেন। হেঙ্গাউ জানিয়েছে যে, ফাঁসি “স্থগিত” হয়েছে—বাতিল হয়নি। তাই এরফানের জীবন এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছেন। এরফান সোলতানির ঘটনা এই নির্মম দমনপীড়নের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। আপাতত তার ফাঁসি রোধ হওয়ায় অনেকে এটিকে একটি ছোট বিজয় বলে মনে করছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের স্বাধীনতার লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

#ইরান_বিক্ষোভ #এরফান_সোলতানি #মানবাধিকার






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*