বাংলাদেশের সিলেটে হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ: সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত।
বাংলাদেশের সিলেট জেলায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একজন হিন্দু স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (বিশেষ করে হিন্দু) ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার একটি নতুন উদাহরণ।
ঘটনার বিবরণ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাহোর গ্রামে (নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন) বীরেন্দ্র কুমার দে নামে একজন জনপ্রিয় হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে বুধবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরের দিকে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে স্নেহের সঙ্গে ‘ঝুনু স্যার’ বলে ডাকেন। বাড়িতে বীরেন্দ্র কুমার দে, তার পরিবারের সদস্য এবং বয়স্করা উপস্থিত ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় অল্পের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে যান। কেউ আহত হননি, তবে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতার অংশ। গত ১৮ ডিসেম্বর গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের লিঞ্চিংয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য বিভিন্ন হামলায় নিহত হয়েছেন। বাড়িঘর, জমি ও সম্পত্তি দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৫১টি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান এই পরিস্থিতিকে “বিপর্যয়কর” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুরা খুন হচ্ছেন, তাদের বাড়িঘর ও মন্দিরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের মধ্যে গণতান্ত্রিক উদ্বেগও তীব্র হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন যে, সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
