সম্পত্তি বিরোধে আ’লীগ ট্যাগে গ্রেফতার হন মীরসরাইয়ের মহিলা মেম্বার সাজেদা
পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেফতার হন মীরসরাইয়ের নারী ইউপি সদস্য সাজেদা আক্তার
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১৩নং মায়ানী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সাজেদা আক্তারকে পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে হয়রানির উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক পরিচয় জুড়ে দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে—এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, মায়ানী ইউনিয়নের সোলতান আহমেদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল (প্রকাশ চিটিং বাবুল) ১৯৮৭ সালে এক সনাতনী নারীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন। ওই নারীর পূর্ব সংসারের দুই পুত্র সন্তান ছিল। বিয়ের পর তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন বাবুল এবং ১৯৮৮ সালে প্রথম স্ত্রীর নামে ৬০ শতক সম্পত্তি দানপত্র করে দেন।
পরবর্তীতে ১৯৮৯/৯০ সালের দিকে বাবুল দ্বিতীয় বিয়ে করেন হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আজমনগর গ্রামের জাহেদা আক্তারকে। বিয়ের দুই-তিন বছরের মাথায় দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করেন। দীর্ঘদিন পর মামলার নিষ্পত্তি হলে জাহেদা আক্তারের নামেও কিছু সম্পত্তি দানপত্র করা হয়। এরপর ২০০০ সালে বাবুল তার অবশিষ্ট সম্পত্তি প্রথম স্ত্রী নার্গিস সুলতানা ও দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা আক্তারের নামে পুনরায় দানপত্র রেজিস্ট্রি করে দেন।
জানা যায়, প্রথম স্ত্রী নার্গিস সুলতানা পরবর্তীতে তার প্রাপ্ত সকল সম্পত্তি নিজ পূর্ব সংসারের দুই ছেলের নামে হেবা দলিল করে দেন। যেহেতু বাবুলের সঙ্গে তার কোনো সন্তান ছিল না, এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। বাবুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানরা এ সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় শুরু হয় একের পর এক মামলা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্র।
এদিকে ২০১৪-১৫ সালের দিকে বাবুল তৃতীয়বার বিয়ে করে মীরসরাই পৌর সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে মোহাম্মদ হাসান তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে হজ্বে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হজ্ব থেকে ফিরে বাবুল আবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসারে ফিরে যান।
আরও জানা যায়, এর আগেই বাবুল তার বসতভিটার একটি অংশ প্রতিবেশী সিরাজ উদ্দিন খোকা ওরফে খোকা টেইলরের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, একই সম্পত্তি তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে দানপত্র করে দিয়েছেন, যা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে খোকা টেইলার বাবুলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
অন্যদিকে বাবুলও প্রথম স্ত্রীর নামে করা ১৯৮৮ সালের দানপত্র বাতিল এবং ২০০০ সালের দলিল জাল দাবি করে পৃথক মামলা দায়ের করেন। এসব মামলা ও বিরোধ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ একটি সালিশে আপোষ হলেও অভিযোগ রয়েছে, সেই আপোষ ভঙ্গ করেন বাবুল ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আপোষ ভঙ্গ করে তারা সাংবাদিক হাসানের ভাই হোসেনের কাছ থেকে জায়গা রেজিস্ট্রি দেখিয়ে পূর্বে মেপে দেওয়া জমির সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলেন এবং উল্টো একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের করেন। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় মূলত রাজনৈতিকভাবে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও পারিবারিক বিরোধের জেরে মহিলা ইউপি সদস্য সাজেদা আক্তারকে ‘আওয়ামী লীগ ট্যাগ’ দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
