প্রাণের ৭১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা: রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের ‘মানসিক চিকিৎসার’ দাবিতে ছাত্রদলের মানববন্ধন

রাজশাহী, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল)।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়ান, যেখানে লেখা ছিল— ‘আমি আম্মার, আমি মানসিকভাবে অসুস্থ, আমার মানসিক চিকিৎসা দরকার’, ‘আমি আম্মার, আমি মানসিক বিকারগ্রস্ত’ প্রভৃতি।

ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টাঙানো একটি ব্যানার ঘোষণা দিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁর অশোভন আচরণ, উত্তেজনাকর বক্তব্য ও কার্যকলাপ ক্যাম্পাসে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে তারা দাবি করেন।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন,

“সালাহউদ্দিন আম্মারের এমন আচরণ একজন সচেতন ছাত্রনেতার মতো নয়। ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় তাঁর মানসিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ আরও কঠোর ভাষায় বলেন,

“যদি তাঁকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা না হয়, তাহলে আমরা আগামীতে সালাহউদ্দিন আম্মারকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত থাকব।”

মানববন্ধন শেষে ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সালাউদ্দিন আম্মারের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে বিপুল ভোটে জিএস নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন আম্মার। নির্বাচনের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় থাকলেও ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

এই ঘটনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*