প্রাণের ৭১

বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬: শেখ হাসিনা ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় বললেন – ‘নৌকা নাই, ভোট নয়’

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলটি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন – “নৌকা নাই, ভোট নয়”।
আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেছেন, দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা যদি ব্যালট পেপারে না থাকে, তাহলে তার সমর্থক ও কর্মীদের ভোট না দেওয়াই উচিত। তিনি আরও যোগ করেন,

“আমরা জনগণের ওপর আস্থা রাখি, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিন, আমাদের প্রতীক নৌকা ব্যালটে রাখুন। সবাই নির্বাচনের রায় মেনে নিব। জনগণের ইচ্ছার ওপর আমরা চলব।”

এই বার্তায় তিনি একইসঙ্গে জুলাই চার্টারের গণভোটেরও বিরোধিতা করেছেন।

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার পটভূমি

  ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

  ২০২৫ সালের মে মাসে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরে নির্বাচন কমিশন দলের নিবন্ধন বাতিল করে।

  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন রায় হয়েছে।

  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে “নির্বাচন নয়, রাজ্যাভিষেক” বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে এবং সৃষ্ট সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

এই স্লোগান “No Boat, No Vote” ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এটিকে প্রচার করছেন এবং নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন। অনেকে বলছেন – “শেখ হাসিনা ছাড়া নির্বাচন নয়”।

এই পরিস্থিতিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*