বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে মামুন ভূঁইয়া’র বিনম্র শ্রদ্ধা
জাতীয় কবি, বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী চেতনার দীপ্ত প্রতীক, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন কুমিল্লা বুড়িচং এর কৃতি সন্তান শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মো: আবদুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বাংলা সাহিত্যের একজন কালজয়ী কবি নন; তিনি অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে চিরজাগ্রত এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করেছে এবং মানুষের অধিকার, মর্যাদা, সাম্য ও মানবতার পক্ষে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, নজরুলের শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের আদর্শিক প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল বাঙালির মুক্তি, সাম্য ও মানবতার আকাঙ্ক্ষা—যে চেতনাকে নজরুল তাঁর সৃষ্টিকর্মে শক্তিশালীভাবে ধারণ করেছিলেন।
মো: আবদুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া আরও বলেন, “নজরুলের বিদ্রোহ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাঁর সাম্যের আহ্বান ছিল মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং তাঁর মানবতাবাদ ছিল ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার জন্য। তাই সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা কখনো কমেনি; বরং বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও বিভাজনের এই সময়ে তাঁর আদর্শ আরও বেশি প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, জাতীয় কবির অমর সৃষ্টি ও আদর্শকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে এবং মানবতার জয়গান গাইতে অনুপ্রাণিত করবে—এটাই হোক তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর অঙ্গীকার।
তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আত্মার শান্তি কামনা করে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
“গাহি সাম্যের গান—
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান।”
জয় বাংলা। শ্রদ্ধাঞ্জলী।
