প্রাণের ৭১

জেলিফিশের ঝাঁকে অচল ফ্রান্সের গ্র্যাভলিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্যারিস, ১২ আগস্ট ২০২৬ — ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত পশ্চিম ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্র্যাভলিনে জেলিফিশের বিশাল ঝাঁক আটকে যাওয়ায় একাধিক চুল্লি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। পরিচালক সংস্থা ইডিএফ (EDF) মঙ্গলবার জানিয়েছে, সোমবার রাতে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।

ডানকার্ক ও ক্যালে শহরের মাঝে অবস্থিত গ্র্যাভলিন কেন্দ্রের ছয়টি চুল্লির মধ্যে ২, ৩ ও ৪ নম্বর চুল্লি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ১ নম্বর চুল্লির উৎপাদন সতর্কতামূলকভাবে ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। ৫ নম্বর চুল্লি আগে থেকেই নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল। ফলে কেন্দ্রটিতে এখন শুধু ৬ নম্বর চুল্লি পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে।

ইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, “জেলিফিশের বিশাল ও অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি পাম্পিং স্টেশনের ফিল্টার ড্রামে আটকে যায়। এতে শীতলকরণ ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ কমে যায় এবং চুল্লিগুলো সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুসারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।” সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা, কর্মীদের নিরাপত্তা বা পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। জেলিফিশগুলো কেন্দ্রের নন-নিউক্লিয়ার অংশে আটকেছিল।

গ্র্যাভলিন কেন্দ্রের প্রতিটি চুল্লির উৎপাদনক্ষমতা ৯০০ মেগাওয়াট। মোট ৫.৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম এই কেন্দ্রটি উত্তর সাগরের সঙ্গে যুক্ত একটি খাল থেকে পানি নিয়ে শীতল করা হয়। গরম পানিতে জেলিফিশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের ঝাঁক তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

গত বছর ২০২৫ সালের আগস্টেও একই কেন্দ্রে জেলিফিশের ঝাঁকে চারটি চুল্লি বন্ধ হয়ে পুরো কেন্দ্র সাময়িকভাবে অচল হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ইডিএফ এবার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়েছে। কেন্দ্রের পানি প্রবেশপথে স্থির ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং মাছ ধরার নৌকা মোতায়েন করে ঝাঁক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আটকে থাকা জেলিফিশগুলো ভ্যাকুয়াম ট্রাক দিয়ে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। নতুন করে জেলিফিশ আসছে না বলে পরিষ্কার কাজ শেষ হলে চুল্লিগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সে এ বছর বেশ কয়েকবার তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১৫.৬ শতাংশ ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। গ্র্যাভলিন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জেলিফিশের কারণে পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধের ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ঘটেছে। ২০১৩ সালে সুইডেনে এবং ১৯৯৯ সালে জাপানে অনুরূপ ঘটনায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।

রয়টার্স






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*