ইসলামে অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা ও মদিনা সনদের তাৎপর্য -মোহাম্মদ হাসান
বিশ্বাসঘাতকতা করলে সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে যথোচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে ব্যক্তি নিজের সন্তান বা আত্মীয় হলেও তাকে এ ব্যাপারে ক্ষমা করা যাবে না।
মদিনা সনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইহুদিদের মিত্ররাও সমান নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা ভোগ করবে। এই শর্তগুলো থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থাকে সমর্থন করে। মদিনা সনদ কোনো ধর্মভিত্তিক সংকীর্ণ রাজনীতিকে অনুমোদন করে না; বরং এতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহাবস্থানের নীতিই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ইসলাম একটি পরীক্ষিত ও পরিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা। রাসূল (সা.) ও সাহাবিদের শাসনামল এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বহন করে। সেই সমাজে এমন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, রাস্তার একটি প্রাণীর খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হতো। সেখানে নারী রাতের আঁধারেও একাকী নিরাপদে চলাফেরা করতে পারতেন। সকল ধর্মের মানুষ পেয়েছিল ন্যায়বিচার, স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন ও নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা।
বর্তমান বিশ্বে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী রাষ্ট্রের বাস্তব উদাহরণ অনুপস্থিত। ফলে উদাহরণ দিতে হলে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হয়। পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বমানবতার মুক্তি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইসলাম একটি উপযুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক শাসনব্যবস্থা।
লেখক: মোহাম্মদ হাসান
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
