প্রাণের ৭১

প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, গণতান্ত্রিক সহনশীলতাই হোক নেতৃত্বের শক্তি- মোহাম্মদ হাসান

-মোহাম্মদ হাসান

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক পথচলা যেমন নানা অর্জনে সমৃদ্ধ, তেমনি সংঘাত, অবিশ্বাস, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের অভিজ্ঞতাতেও ভারাক্রান্ত। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, সরকারের সমালোচনা হবে, বিরোধী দল বিকল্প নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্বেষ কিংবা প্রতিশোধের মানসিকতায় পরিচালিত হয়, তখন রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য—জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন—পেছনে পড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি বক্তব্য এই বাস্তবতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। অতীতে নিজের ওপর শারীরিক নির্যাতন, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়া এবং তার শারীরিক ক্ষতির স্মৃতি তুলে ধরেও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে দেশ ও জাতির উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত কষ্টের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিহিংসার আহ্বান না জানিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর এই বার্তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে—রাজনীতি কি অতীতের ক্ষতকে আরও গভীর করবে, নাকি সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সহনশীলতার নতুন পথ তৈরি করবে?

রাজনৈতিক ভাষা ও নেতৃত্বের দায়

রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাষা কখনোই নিছক ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি নয়। একজন জাতীয় নেতার বক্তব্য দলীয় কর্মী-সমর্থক, প্রশাসন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। নেতৃত্বের ভাষায় সংযম থাকলে রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও আলোচনার পরিসর তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, বক্তব্যে বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার সুর প্রাধান্য পেলে সেই মনোভাব তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এ কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব শুধু নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরা নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে শত্রুতায় রূপ নিতে দেওয়া হবে না।

তবে দায়িত্বশীল বক্তব্যের মূল্যায়ন কেবল শব্দের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। নেতার বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক আচরণ, নীতিনির্ধারণ, বিরোধী মতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বাস্তব চর্চারও সামঞ্জস্য থাকতে হবে। কারণ রাজনৈতিক শালীনতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা কথার পাশাপাশি কাজেও প্রতিফলিত হয়।

ইতিহাসের শিক্ষা: ঐক্য ও বিভাজনের দ্বন্দ্ব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের পর রাষ্ট্র গঠনের যে বিশাল দায়িত্ব সামনে এসেছিল, তা ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কঠিন পরীক্ষা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট, সংঘাত এবং শাসনব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে জটিল করে তোলে।

পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদ, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ধারণাকে সামনে আনেন। তাঁর শাসনামল ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। তবু জাতীয় পরিচয়, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়।

অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলোর একটি হলো নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন। বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সামরিক শাসনের অবসান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পালাক্রমে ক্ষমতায় আসা, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক সংঘাত, বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডে বাধা, মামলা-মোকদ্দমা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করেছে। এসব বিষয়ে দলভেদে ব্যাখ্যা ও মূল্যায়নের পার্থক্য থাকলেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করা কঠিন—দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বৈরিতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দুর্বল করে দিতে পারে।

ইতিহাসের এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। কোনো রাজনৈতিক দলের অবদান স্বীকার করতে গিয়ে তার সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে প্রতিপক্ষের সব অর্জন অস্বীকার করাও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নয়।

প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি

প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের অর্থ অতীতের অন্যায় ভুলে যাওয়া নয়। কেউ নির্যাতনের শিকার হলে, কেউ অন্যায়ভাবে অধিকার হারালে কিংবা কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটলে তার বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু ন্যায়বিচার এবং প্রতিশোধ এক বিষয় নয়।

ন্যায়বিচারের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রমাণ, আইন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাধীন বিচারপ্রক্রিয়া। অন্যদিকে, প্রতিশোধের রাজনীতি প্রায়ই ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা দলীয় স্বার্থকে বিচারের মানদণ্ডে পরিণত করে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীর জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ই মুখ্য হয়ে ওঠে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধের দায় ব্যক্তির; তা কোনো দল, গোষ্ঠী বা সমর্থকসমাজের ওপর সামগ্রিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে, ক্ষমতাসীন দলের কেউ অপরাধ করলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় তাঁকে দায়মুক্তি দিতে পারে না। বিরোধী দলের সদস্যের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।

অতীতের অন্যায়ের প্রতিকার করতে গিয়ে নতুন অন্যায় সৃষ্টি করা হলে ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা, কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রতিহিংসার হাতিয়ার হতে না দেওয়া।

গণতন্ত্রে বিরোধী মতের মর্যাদা

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের নাম নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার, স্বাধীন গণমাধ্যম, কার্যকর সংসদ এবং ক্ষমতার জবাবদিহি। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নির্ভর করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর।

সরকারের সমালোচনা মানেই রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়; আবার সরকারের বিরোধিতা করলেই সব বক্তব্য সঠিক হয়ে যায় না। যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিতর্ক পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। বিরোধী দলকে সংসদে ও জনপরিসরে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল সমালোচনা, বাস্তবসম্মত বিকল্প কর্মসূচি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নীতিগত বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মতো মৌলিক বিষয়ে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা জরুরি। গণতন্ত্রে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার নিয়ম নির্ধারিত হবে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে—প্রতিহিংসা কিংবা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।

উন্নয়ন ও জনজীবনের প্রশ্নে ঐকমত্য জরুরি

বাংলাদেশের সামনে এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান কোনো একক দল বা সরকারের পক্ষে এককভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।

বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একটি সরকার নীতি গ্রহণ করবে, পরবর্তী সরকার এসে তা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেবে—এমন ধারাবাহিকতা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সমঝোতা থাকা দরকার।

জাতীয় ঐক্যের অর্থ সব দলকে একই মতের অনুসারী হতে হবে, এমন নয়। বরং মতপার্থক্য বজায় রেখেও দেশের মৌলিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাই প্রকৃত ঐক্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো, কোন বিষয়ে প্রতিযোগিতা প্রয়োজন এবং কোন বিষয়ে সহযোগিতা অপরিহার্য—তা উপলব্ধি করা।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জাতীয় দায়িত্ববোধ

তারেক রহমানের বক্তব্যের তাৎপর্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাই দুটি বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, অতীতের নির্যাতন বা ব্যক্তিগত ক্ষতির অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক বক্তব্যে উঠে আসতেই পারে। দ্বিতীয়ত, সেই অভিজ্ঞতার প্রতিক্রিয়া কীভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বেদনা যদি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বানে রূপ নেয়, তবে তা ইতিবাচক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে কোনো বক্তব্যকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার রক্ষা, আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়।

একই মানদণ্ড দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনো দলের নেতা সংযমের আহ্বান জানালে তা স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাঁর দল সেই নীতি কতটা অনুসরণ করছে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও ধারাবাহিক চর্চার মধ্য দিয়ে; কেবল বক্তৃতা কিংবা ঘোষণার মাধ্যমে নয়।

শেষ কথা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলো কতটা দায়িত্বশীলভাবে ক্ষমতার ব্যবহার করে, ভিন্নমতকে কতটা সম্মান জানায় এবং জনস্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে তার ওপর। অতীতের অভিজ্ঞতা অস্বীকার করা যাবে না, আবার অতীতের ক্ষতকে অনন্ত রাজনৈতিক সংঘাতের ভিত্তি হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত নয়।

রাজনীতিতে জবাবদিহি থাকবে, অন্যায়ের বিচার হবে, সরকারের সমালোচনা হবে এবং ক্ষমতার পরিবর্তনও গণতান্ত্রিক নিয়মে ঘটবে। কিন্তু এসবের কোনো কিছুই প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ কিংবা নাগরিক অধিকার হরণের অজুহাত হতে পারে না।

আজ বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে শত্রু নয়, ভিন্নমতের রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হবে; যেখানে নেতৃত্বের শক্তি প্রকাশ পাবে সংযমে, ক্ষমতার ব্যবহার হবে জবাবদিহির আওতায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হবে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন।

শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ধারিত হয় তার বক্তব্যের চেয়ে বেশি তার কাজের মাধ্যমে। প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়বিচার, বিভাজনের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং ব্যক্তিস্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে পারলেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও সুদৃঢ় হতে পারে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন কখনো জাতীয় অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এটাই হওয়া উচিত দায়িত্বশীল রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।

লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।






মতামত দিন।

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*